April 10, 2026, 10:35 am

সংবাদ শিরোনাম
সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

যশোরের ঝিকরগাছায় শিক্ষকের নির্যাতনে সৃতিশক্তি লোপ পেয়ে গেছে শিশু শিক্ষার্থী

বিল্লাল হুসাইন,যশোর জেলা ব্যুরো প্রধানঃ

mostbet

যশোরের ঝিকরগাছায় শিক্ষকের নির্যাতনে শিশু শিক্ষার্থী মানুষিক ভারসাম্য হারিয়েছে। ফাতেমা (১১) নামে ওই শিশুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ফাতেমা ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের পুলুম গ্রামের শাহিনুর রহমানের মেয়ে। তবে, অভিযুক্ত শিক্ষকরা বলেছেন, মেয়েটিকে জীনে ধরেছে। ফাতেমার পিতা শাহিনুর রহমান ও মাতা ডলি খাতুন জানান, ফাতেমা খাতুন পুলুম বাজারের সিরাজ মার্কেটের তৃতীয় তলায় মা ফাতিমা মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। এক মাস আগে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হুমায়রা খাতুন তাকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে মাথা ধরে দেয়ালে প্রচন্ড আঘাত করে। এতে সে জ্ঞান হারায়। প্রায় এক ঘন্টা মাথায় পানি দেয়ার পর তার জ্ঞান ফেরে। এরপর তাকে বাড়িতে আনা হয়। তখন থেকে সে ভুল বকতে থাকে। মাদ্রাসার শিক্ষক আলমগীর হুসাইন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে জীন লেগেছে বলে বিভিন্ন দোয়া কালাম পড়ে ফু দিয়ে দেন।তাতেও কাজ না হলে তিনি চৌগাছা এবং ঝিকরগাছার কয়েকজন ফকিরের কাছে পাঠান। দিন দিন অবস্থা খারাপ হতে থাকলে মাদ্রাসা থেকে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। বিভিন্ন জায়গায় কবিরাজ, ফকির দেখানোর পর ফের তাকে ওই মাদ্রাসায় পাঠানো হয়। অবস্থার এক পর্যায়ে খারাপ হওয়ায় রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফাতেমার মা ডলি বেগম জানান, ঘুমের ট্যাবলয়েড খাওয়ানো হলেও দিনে রাতে কখনো ঘুম পড়ছে না। এক জায়গায় থাকছে না। হাসপাতালে সর্বত্রই ছুটে বেড়াচ্ছে। যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুর রহমান (মানুষিক রোগ বিশেষজ্ঞ) সোমবার দুপুরে গত ৩০ ডিসেম্বর ফাতিমাকে চিকিৎসা শেষে সাংবাদিকদের জানান, শিশুটির বর্তমানে মানুষিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয়া হয়েছে।রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে তার কি অবস্থা। মা ফাতিমা মাদ্রাসার শিক্ষক আলমগীর হুসাইন জানান, আগে থেকে ফাতিমার এরকম অবস্থা রয়েছে। তাকে মাথায় কোন প্রকার আঘাত করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ডের রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে কওমী মাদ্রাসা হিসেবে গত বছর থেকে এ মাদ্রাসা চালু করা হয়েছে। শিক্ষক হুমায়রা খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে অপর শিক্ষক আলমগীর হোসেন শিক্ষক হুমায়রা খাতুনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ফাতেমার ঘাড়ে জীন আছে। তাই ওরকম করছে। তাকে কোন আঘাত করা হয়নি। ফাতেমার পিতা শাহিনুর রহমান ও মাতা ডলি খাতুন জানান, মেয়েটির অবস্থা একটু ভাল হলে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সাধন কুমার বিশ্বাস জানান, বিষয়টি জানা নেই। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৩১ ডিসেম্বর ২০১৯/ইকবাল
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর